অনলাইন ক্লাসের যন্ত্রপাতি ও সফটওয়্যার

Scroll Down

সকলকে সালাম (আস্সালামু আলাইকুম) জানিয়ে শুরু করছি আজকের অনলাইন ক্লাসের যন্ত্রপাতি ও সফটওয়্যার বিষয়ক আর্টিকেল লেখা।

কোভিড-১৯ মহামারির কারনে বিশ্ব আজ থমকে গেছে । আমাদের বাংলাদেশও কোভিড-১৯ এর হাত থেকে রক্ষা পায়নি যা সকলেই জানি। করোনা কালে সকল সেক্টর ক্ষতির মুখে পরেছে। বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থায় এর প্রভাব বেশি লক্ষ করা যায়। ইতোমধ্যে সরকার বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছে সকল ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখার মধ্যে ধরে রাখার জন্য । সরকার স্কুল কলেজগুলোকে  অনলাইন ক্লাস নেওয়ার ব্যাপারে বার বার তাগিত দিচ্ছেন। কিন্তু অনেক গ্রাম অঞ্চলের স্কুল-কলেগুলো অনলাইন ক্লাস কিভাবে নিবে বা কি কি যন্ত্রপাতি ও সফটওয়্যার লাগবে সেটাই জানে না।

আমি আজ বলার চেষ্টা করবো কোন কোন ডিভাইস ও সফটওয়ার দিয়ে অনলাইন ক্লাস নেওয়া যায়।

চলুন তাহেল কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক-

অনলাইন ক্লাসের যন্ত্রপাতি ও সফটওয়্যার কি কি লাগবে ?

১. যে শিক্ষক ক্লাস নিবেন তার কম্পিউটার বা ল্যাপটব হলে ভালো হয় ( মোবাইল হলেও চলবে)।

২. একটি হেডফোন (কথা পরিষ্কার শোনা এবং বলার জন্য) 

কোন সফটওয়ার হলে ভালো হয় ?

আমি কয়েকটি সফটওয়ারের সুবিধা ও অসুবিধা বলে দিবো আর আপনি নিজেই বুঝতে পরবেন কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করলে ভালো হয়।

১. Zoom

বর্তমানে এই সফ্টওয়ারটি বহুল ব্যবহৃত । Zoom সম্পর্কিত আমার আরও একটি পোস্ট আছে । চাইলে দেখে নিতে পারেন। 

Zoom এর সুবিধা:

( ক ) এই সফটওয়্যারটি ফ্রি এবং পেইড দুটি ভার্সনই রয়েছে । সফটওয়্যারটির মোবাইল এবং কম্পিউটার দুটি ভার্সনই থাকায় এটি বেশ ইউজার ফ্রেন্ডলি এবং জনপ্রিয়। 

( খ ) ছাত্র/ছাত্রী খুব সহজেই সফটওয়ারটিতে জয়েন করে ক্লাস করতে পারে।

( গ )  ফ্রি ভর্সনে এক সাথে 100 জন ছাত্র-ছাত্রী জয়েন হতে পারে ।

( ঘ ) এর আর একটি সুবধি হলো যে কেউ চাইলে তার মোবাইল বা কম্পিউটার স্ক্রিন শেয়ার করতে পারে।

( ঙ ) শেয়ার করা কোন ডকুমেন্টকে দাগ দিয়ে নির্দেশ করার জন্য রয়েছে কয়েক ধরনের শেপ, পেন, রাবার ইত্যাদি 

( চ ) এখানে রয়েছে চ্যাটিং অপশন।

( ছ ) চাইলে ক্লাসটি রেকড করে রাখতে পারবেন এই জুম সফটওয়্যারটি দিয়েই । অন্য কোন সফট্যয়ার ব্যবহার করা লাগবে না। (কম্পিউটার এর জন্য)

এছারাও অনেক সুবিধা রয়েছে এই সফটওয়্যারটিতে।

Zoom অসুবিধা:

চলুন তাহলে অসুবিধাগুলো জেনে নেই।

সফটওয়্যারটিতে অসুবিধার চাইতে সুবিধাই বেশি।

(ক) প্রথম অসুবিধা হলো ফ্রি সফটওয়্যারটি একটানা ৪০ মিনিট ক্লাস চলার পর অটোমেটিক কেটে যায়। তবে মাত্র অল্প কিছু টাকা খরচ করলেই সফটওয়ারটির সুবিধা পাওয়া যায় চমৎকার।

(খ) সফটওয়্যারটির পেইড ভার্সনটি ব্যবহার করার জন্য কিছু টাকা করচ হয়।

২.  Google Meet 

অনেকেই আছেন যারা গুগল মিট এর নামই শোনেন নি। এটি গুগলের একটি প্রোডাক্ট। ছোট একটি সফটওয়্যার কিন্তু এত সুন্দর এর ফিচার  জানলে অবাক হবেন।

Google Meet এর সুবিধা

(ক) সফটওয়্যারটি সম্পূর্ণ ফ্রি ।

(খ) এখানে ১০০ জন ছাত্র-ছাত্রী এক সাথে জয়েন করতে পারে।

(গ) এখানে আনলিমিটিটেড কথা বলা যাবে, নেট প্রবলেম না থাকলে মিটিং কেটে যাবে না।

(ঘ) এর আর একটি বিশেষ গুন হলো নেট স্লো হলেও তেমন সমস্যা হয় না। 

Google Meet এর অসুবিধা

(ক) সফটওয়ারটি প্রধান সমস্যা হলো ১০০ জনার উপর জয়েন করা যায় না।

(খ) এই সফটওয়্যারটির সাথে রেকর্ডার যুক্ত নাই। রেকর্ড করতে হলে আলাদাভাবে সফটওয়্যার ইনস্টল করতে হয়।

(ঘ) সফটওয়্যারটি ছোট হওয়ার কারণে জুমের মতো এত বেশি ফিচার নাই কিন্তু সফটওয়্যারটি বেশ জনপ্রিয় এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি। 

৩. Messenger Room

ইতোমধ্যে আমরা সকলেই জানি Messenger নতুন একটি ফিচার লঞ্চ করেছে যেটির নাম দেওয়া হয়েছে “Messenger Room” । ইতোমধ্যে এই ফিচারটিও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। “Messenger Room” ছাড়াও ফেসবুক ব্যবহার করে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা একে উপরের মাঝে ফাইল, ভিডিও, ছবি ইত্যাদি শেয়ারিং করে থাকে। 

নিচে “Messenger Room” এর কিছু সুবিধা, অসুবধি তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

Messenger Room সুবিধা:

( ক )  ”Messenger Room” সম্পূর্ণ ফ্রি এবং কোন টাইম লিমিটেশন নাই।

( খ ) ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী একই সময়ে যুক্ত হতে পারে।

( গ ) ফেসবুক আইডি না থাকলেও ক্লাসে জয়েন করা যায়।

( ঘ ) এদের Messenger Room নামে মোবাইল App রয়েছে।

(ঙ) এদের আরো একটি বিশেষ সুবিধা হলো স্ক্রিন শেয়ার করা যায়।

Messenger Room অসুবিধা:

(ক) ”Messenger Room” এর প্রধান সমস্যা হলো এক সাথে ৫০ জনার বেশি একই সময়ে জয়েন করা যায় না।

৪. Youtube 

আধুনিক যুগে Youtube একটি বিশাল বড় সোশ্যাল মিডিয়ায় রুপান্তর হয়েছে। Youtube এর মাধ্যমেও আপনি সহজেই অনলাইনে ক্লাস নিতে পারবেন। এমন কোন মানুষ খুজে পাওয়া মুশকিল যে YouTube এ প্রবেশ করে না। যেহেতু Youtube একটি জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া সেহেতু এটি ব্যবহার করেও ক্লাস করানো যায়।

Youtube সুবিধা:

( ক ) ইউটিউব চ্যানেল খুলেই লাইভ এর মাধ্যমে অথবা ভিডিও আপলোডের মাধ্যমে ক্লাস করানো যায়।

( খ ) এতে ছাত্র-ছাত্রীরা এই চ্যানেলের সাথে যুক্ত (Subscriber) থাকলেই ক্লাসটি পেয়ে যাবে।

( গ ) এখানে ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষক-শিক্ষিকা যখন ইচ্ছা ভিডিও করতে পারে এবং যখন ইচ্ছা ভিডিও দেখে নিতে পারে।

( ঘ ) শিক্ষক লাইভে গেলে অথবা ভিডিও আপলোড করলে ছাত্র-ছাত্রীরা কমেন্টও করতে পারে।

Youtube অসুবিধা:

(ক) Youtube এর মাধ্যমে ক্লাস নেওয়ার প্রধান অসুবিধা হলো ছাত্র-ছাত্রী ক্লাস করলো কি না তা জানা যায় না।

৫.Microsoft Teams  

এই প্লাটফর্মটি বর্তমান সময়ে অনেকেই ব্যবহার করছে। এই প্লাটফর্মটি মাইক্রোসফ্ট প্রতিষ্ঠান  ব্যবসায়িক যোগাযোগর জন্য তৈরি করেছে। এতোমধ্যে Microsoft Teams  বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

Microsoft Teams এর  সুবিধা:

( ক ) Microsoft Teams এর ফ্রি ভার্সনে একই সাথে ২০ জন ছাত্র-ছাত্রী ২৪ ঘন্টা জয়েন হয়ে থাকতে পারে।

( খ ) অডিও, ভিডিও, স্ক্রিন শেয়ারিং ইত্যাতদ করা যায়।

Microsoft Teams  অসুবিধা:

(ক) এর প্রধান অসুবিধা হলো সফটওয়্যারটি পেইডে চালালে ভালো সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়।

(খ) ফ্রি ভর্সনে ২০ জনার বেশি এক সাথে জয়েন হতে পারে না।

আজ এই পর্যন্তই, আশা করি এতোমধ্যে বুঝে গেছেন অনলাইন ক্লাসের যন্ত্রপাতি ও সফটওয়্যার হিসেবে কোন প্লাটফর্মটি ব্যবহারের মাধ্যমে সুবিধা বেশি পাওয়া যায়। 

তার পরেও যদি সমস্যা মনে করেন তবে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা আপনার সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

Tech
Md. Robiul Islam

Top 10 eCommerce Site in Bangladesh 2021

বাংলাদেশে অনলাইন শপিং ২০১৯ ও তেমন জনপ্রিয় ছিল না। ২০২০ – ২০২১ এ এসে অনলাইন শপিং ব্যপকভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনেকেই অনলাইন ব্যবসার প্রতি ঝুকে পরছে।

Read More »

ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম

অসংখ্যাবাচক/বর্ণবাচক বা নন নিউমেরিক ডেটা কাকে বলে?উত্তরঃ যে সমস্ত ডেটা সংখ্যা প্রকাশ না করে বর্ণ, শব্দ, ছবি, গ্রাফিক্স ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে নন-নিউমেরিক ডেটা বলে।

Read More »

1 thought on “অনলাইন ক্লাসের যন্ত্রপাতি ও সফটওয়্যার”

Leave a Comment

Your email address will not be published.