বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে তথ্যপ্রযুক্তির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

Scroll Down

বর্তমান যুগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ছাড়া বর্তমানে কোনকিছুর কথা চিন্তা করা যায় না। সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব বিশাল। নতুন নতুন যেকোন জিনিস তৈরির ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ছাড়া সম্ভব হয় না।

যেমনঃ মানুষ যখন চিন্তা করল যোগাযোগ আগের তুলনায় দ্রুতগতিতে করতে হবে তখনি তারা কিছু হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সমন্বয়ে কিছু ডিভাইস তৈরি করেছে। যার মাধ্যমে আজ দ্রুত যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে। ফলে বিশ্ব আজ হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। একজন ছাত্র বা ছাত্রী যদি চিন্তা করে যে তার পড়া লেখার পাশাপাশি তার পরিবারকে অর্থের দিক থেকে সাহায্য করবে সে আউটসোসিং বা ই-কমার্সের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে তার পরিবারকে সাহায্য করতে পারে। যেখানে আউটসোসিং বা ই-কমার্সে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ছাড়া সম্ভব হচ্ছে না।

মানুষ যখন চিন্তা করল কোন কঠিন কঠিন কাজ যা মানুষের পক্ষে করা সম্ভব হচ্ছে না তখন তারা রোবট তৈরি করল। এখন রোবট তৈরি করতে ব্যবহৃত হচ্ছে কম্পিউটার প্রোগ্রাম ও ইলেকট্রানিক যন্ত্র।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা যখন চিন্তা করল টিউমার বা ক্যান্সার নামক কঠিন রোগের অপারেশন কিভাবে সহজে করা যায়। তখন তারা বের করল ক্রায়োসার্জারি পদ্ধতি।

শিল্পকারখানায় বর্তমান যুগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব

শিল্পকারখানায় অল্প সময়ে পণ্যের নকশা তৈরিতে ব্যবহার করা হয় Computer Aided Design (CAD).
কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান চিন্তা করল কিভাবে তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীর হাজিরা সঠিকভাবে নিশ্চিত করবে। তখন সে ব্যবহার করল বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি।

একজন কৃষক চিন্তা করল কিভাবে সে ভালো ফসল পেতে পারে তখন সে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কখন কোন বীজ জমিতে ফেলতে হবে, কখন কোন সার দিতে হবে তা সে দেখে নিতে পারে। যা আগে সম্ভব ছিল না। যেকোন প্রতিষ্ঠানে যদি ২০টি বা ২৫টি কম্পিউটার থাকে আর যদি একটি প্রিন্টার থাকে প্রতিষ্ঠান প্রধান মনে করল তার ২০টি বা ২৫টি কম্পিউটারের কাজ একটি প্রিন্টার দিয়ে প্রিন্ট করতে হবে। তাতে তার অর্থ বাঁচবে। এক্ষেত্রে সে কম্পিউটার গুলোকে নেটওয়ার্কিং করে নিতে পারে।

গণনার কথা আমরা চিন্তা করি। আদিম যুগের মানুষ গণনার জন্য ব্যবহার করত আঙ্গুল, কাঠি, নুড়ি পাথর, রশিতে গিট দিয়ে মাটি বা দেয়ালে দাগ কেটে ইত্যাদি। মানুষের মধ্যে আস্তে আস্তে চিন্তা আসল কিভাবে গণনা দ্রæত করা যায়। তখন তারা আবিস্কার করল বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র যেমন: ক্যালকুলেটর, কম্পিউটার ইত্যাদি।

একজন লোক যদি চিন্তা করে সে ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করবে। এক্ষেত্রে তাকে পণ্য নির্বাচন করতে হবে। পণ্য প্রচারের জন্য ইন্টারনেটে তাকে পণ্যের বিজ্ঞাপন দিতে হবে, ছবি দিতে হবে, কিছু লেখা দিতে হবে। চাইলে সে আলাদা ওয়েব সাইট ব্যবহার করতে পারে। তার এই কাজগুলো করার জন্য অবশ্যই বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। এখানেও তার সৃজনশীতার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব রয়েছে।

একজন শিক্ষার্থী চিন্তা করল নতুন কোন সফটওয়্যার তৈরি করবে। সে সফটওয়্যারটি সারা পৃথিবীর মানুষ ব্যবহার করবে। এখানে তার সফটওয়্যারটি তৈরি করতে অবশ্যই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।

বড় বড় শিল্প কারখানায় বা ব্যাংকে অনেক লোক কাজ করে তাদের তথ্য কোন খাতায় লিখে রাখা সম্ভব হয় না। তাই তাদের তথ্যগুলো যদি খুব সহজে রাখা যায় পরবর্তীতে খুব সহজে খুঁজে বের করা যায় এই চিন্তা করে ড. এডগার কোড আবিস্কার করে ওরাকল ডেটাবেজ। তাঁর এই ওরাকল ডেটাবেজ আবিস্কারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব রয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, যে কোন নতুন নতুন সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম।

Read More Article

Tech
Md. Robiul Islam

Top 10 eCommerce Site in Bangladesh 2021

বাংলাদেশে অনলাইন শপিং ২০১৯ ও তেমন জনপ্রিয় ছিল না। ২০২০ – ২০২১ এ এসে অনলাইন শপিং ব্যপকভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনেকেই অনলাইন ব্যবসার প্রতি ঝুকে পরছে।

Read More »

ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম

অসংখ্যাবাচক/বর্ণবাচক বা নন নিউমেরিক ডেটা কাকে বলে?উত্তরঃ যে সমস্ত ডেটা সংখ্যা প্রকাশ না করে বর্ণ, শব্দ, ছবি, গ্রাফিক্স ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে নন-নিউমেরিক ডেটা বলে।

Read More »

Leave a Comment

Your email address will not be published.